বৃষ্টি ও কিছু নীরবতা / কোহিনুর আকতার
মেঘের ঘনঘটায় অঝোর বৃষ্টি নামে, আর আমার ভেতরে জমে থাকা কত অচেনা কথাও যেন জেগে ওঠে একে একে।
বাইরে শুধু জল ঝরে, অথচ ভিজতে থাকে মন।
মনে হয়, আকাশেরও বুঝি কিছু দুঃখ
থাকে–যা রোদে বলা যায় না, তাই বৃষ্টির ভাষায় প্রকাশ করে।
বৃষ্টি নামলে পৃথিবীটা একটু ধীর হয়ে যায়। মানুষের ব্যস্ততা কমে, পথের কোলাহল থামে, আর নিজের সঙ্গে নিজের দেখা হয়ে যায়। তখন বোঝা যায়, আমরা যতটা মানুষের ভিড়ে থাকি, তার চেয়ে অনেক বেশি বাস করি নিজেদের ভেতরের এক নিঃশব্দ ঘরের ভেতর।
জানালার কাঁচে বৃষ্টির ফোঁটাগুলো গড়িয়ে গড়িয়ে নামে। প্রতিটি ফোঁটাকে মনে হয় একটি করে স্মৃতি—কেউ এসেছে, কেউ চলে গেছে, কেউ থেকে গিয়েও আর আগের মতো নেই। সময় তাদের নিয়ে গেছে, কিন্তু মনের কোনো এক গোপন জায়গায় তারা এখনো রয়ে গেছে।
কিছু মানুষকে ভুলে যাওয়া যায় না, শুধু তাদের সঙ্গে বেঁচে থাকার অভ্যাসটা বদলে যায়। কিছু সম্পর্ক শেষ হয়ে যায় বটে, কিন্তু তাদের রেখে যাওয়া শূন্যতা শেষ হয় না।
আজ বৃষ্টির শব্দে তাই কোনো আনন্দের গান শুনি না, আবার নিছক বিষণ্ণতাও খুঁজি না। শুধু মনে হয়—জীবনটাও বৃষ্টির মতো। কখনো মুষলধারে আসে, কখনো টুপটাপ, কখনো দীর্ঘ অপেক্ষার পর। আমরা ছাতা মেলে বাঁচতে শিখি, অথচ কিছু বৃষ্টি ইচ্ছে করেই গায়ে মাখতে হয়।
হয়তো জীবনের সব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া জরুরি নয়। কিছু প্রশ্ন বৃষ্টির মতোই থাকুক—নামুক, ভিজিয়ে দিক, তারপর নীরবে চলে যাক। কারণ সব বৃষ্টি মাটি ভেজায় না;
কিছু বৃষ্টি মানুষের ভেতরের শুকিয়ে যাওয়া জায়গাগুলোতে নামে।
আর সেই বৃষ্টির পর—
মানুষটা হয়তো আগের মতো থাকে না, আরও একটু বেশি নিজের হয়ে ওঠে।
Leave a Reply