বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ০৬:৫৩ অপরাহ্ন
মানুষের জীবনে হঠাৎ করেই হাসফাস লাগে, অস্থিরতা নেমে আসে। আকাশে যেমন মেঘ ডাকলে জোরে শব্দ হয়ে ঝড়-ঝাপটা হয়। মানুষের মনেও এমন হয় তবে কেউ কেউ এর ব্যতিক্রম। তারা নীরবে নিঃশব্দে হেঁটে বেড়ায়, আমার আমিকে আড়াল করে কাঁদে। তুমুল ভাঙচুর হয় তবুও নিজেকে লুকিয়ে রাখে। বিচিত্র বৈশাখের উপস্থিতিতেও নিঁখুতভাবে উপস্থাপন করে নিজেকে।
হঠাৎ করেই যখন মোলায়েম জীবনের ঘোরের ভেতর থাকতে থাকতেই ছন্দপতন হয় । জানতে পারে তার দীর্ঘদিনের জমানো গচ্ছিত সুখ বিলিয়ে দিতে হচ্ছে বা হবে। ঠিক যেনো কলা গাছের ভেলায় চড়ে অজানা গন্তব্যে পাড়ি দেয়ার মতো, সে কোথায় যাবে কার কাছে যাবে জানে না। এই যে, সে এতোদিন ধরে আলো জ্বালাতো এটা পুরোপুরি ভুলে যেতে হয় তাকে বা মেনে নিতে হয় সে কখনো কোথাও কখনো আলো জ্বালায়নি বা জ্বালাতে পারে না। ঠিক যেনো নিজেই নিজের কাছে হেরে যাওয়া। এ হারা আসলে দুঃখের কাছে সমপর্ণ করা। এই মানুষগুলো অনিশ্চিন্ত পথে হাঁটাতে হবে এই ভেবে, জলের গেলাস হাতে নিয়ে ভুলে যায় গেলাস হাতে। সদ্য স্নান করে এসে আবারো যায় স্নানঘরে স্নান করতে।
আসলে এই মানুষগুলো তখন পুরোপুরি বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। একে বলে মেন্টাল ডিস অর্ডার। তখন কেউ কেউ এলোমেলো জীবন যাপন করে কেউ কেউ দিশহারাকে সঙ্গী করেই কত যে মাধবীরাত জুড়ে নির্লিপ্ত থাকে আর বিষণ্ন কবিতার শব্দ খোঁজে, তাদের অজান্তেই নিঃশব্দে দীর্ঘশ্বাস বেড়িয়ে আসে। তবে কখনো কখনো স্বপ্নে বিভোর হয়ে নির্ভরতার হাত খোঁজে, খোঁজে উজ্জ্বল দিপ্তীমাখা মুখ, আজলা ভরা সুখ। শুধু এক টুকরো প্রশান্তি আশায় দু হাত বাড়িয়ে দিতে চায়। চায় বিশ্বাসের আলো জ্বলে উঠুক তার হৃদয় জুড়ে। সেরে যাক সমস্ত অসুখ।