মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৫৭ অপরাহ্ন
একেই বলে “লে হালুয়া”।
যুগে যুগে কতো প্রেম কাহিনী। লায়লি মজনু বা রোমিও জুলিয়েট বা আরও ঐতিহাসিক প্রেমের বিচ্ছেদ বেদনায় চোখের পানি ফেলেছি।”প্রেম সংকট” নিয়ে ব্রিটিশ রাজপরিবারের কতো কতো কাহিনী। তবে অষ্টম এডওয়ার্ড একজন লেডি সিস্পসনের জন্য রাজত্ব ছেড়ে প্রমাণ করলেন-“প্রেমের মহিমা কতোটা দামি”।
নব্বই এর মাঝামাঝি একদিন একজন ছাত্রী আমাকে একটা লাল রঙের গোলাপ দিয়ে বললো-” ম্যাডাম, ভালোবাসি “।আমি হেসে বলি ” তো আজকে কেন?”।শুনি সেদিন ভালোবাসা দিবস। পাশ্চাত্যের এই সংস্কৃতি আমদানি করেছিলেন সাংবাদিক শফিক রেহমান। পরের বছর থেকে দেখি তথাকথিত ভালোবাসা দিবসে ফুলের দোকানের রমরমা ব্যবসায়ের ধুম আর পথে মাঠে পার্কে -আহা! জোড়ায় জোড়ায় কতজন।
একুশ শতকের তথ্য প্রযুক্তির কালে এখন ডিজিটাল প্রেমের যুগ। ফেসবুকের ম্যাসেজ বক্সে টুংটাং! সারারাত কতো কথা! কতো স্বপ্ন। যদিও একেক জনের অসংখ্য। তাতে কি! মন বলে কথা। এক মনের কতো ভাগাভাগি। আর ইলেকট্রনিক মিডিয়ার নাটকের মতো প্রেমে পড়েই ” জান!” কি টান। কিন্তু বেশির ভাগে ভেতরে ফাঁকা।
তবে বেশ মজা পাই যখন দেখি গ্রামে গঞ্জে ফেসবুকের কল্যাণে প্রবাস থেকে ছুটে আসছেন অনেক নারী বা পুরুষ। তা প্রেম বলে কথা। এতে জাতপাত,ধর্ম বা ভাষা কিন্তু একেবারে তুচ্ছ। শেষমেশ কতোটা টিকে তাতো অজানা থেকে যায়।
তবে কঠিন হলেও সত্যি! একালের প্রেমের স্থায়িত্ব খুব কম।কারণ “ইগো সমস্যা বা বহুগামিতায় প্রেমের বিয়েও তাসের ঘরের মতো ভেঙে যাচ্ছে অবলীলায়।” স্বর্গ থেকে আসে প্রেম স্বর্গে যায় চলে বা প্রেমের মরা জলে ডুবে না।” সে যুগ হয়েছে বাসি।প্রেম এখন অনেকটা পদ্মপাতার জলের মতো।কিন্তু পরিবার বা সমাজের ভারসাম্য রাখার জন্য এটি কোনভাবেই শুভলক্ষণ নয়।প্রেম সত্যিকার অর্থে নিখাঁদ ও পবিত্র হোক আর প্রেমের বন্ধনে গড়ে ওঠা সংসার সুখের হোক এটাই প্রত্যাশা।
লেখক : শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক